অজানা দ্বীপ রাষ্ট্রের ক্রিকেট

0
1600

মহিলা ক্রিকেটের সাথে সম্পৃক্ত কিন্তু ক্রিকেট বিশ্বের অনেকর কাছেই স্বল্প-পরিচিত এমন কয়েকটি দেশের ক্রিকেট নিয়ে আজকের আলোচনা। এখানে আমরা ৫ টি দ্বীপ দেশ নিয়ে আলাপ করব যাদের ক্রিকেট সম্পর্কে বেশিরভাগ ক্রিকেট অনুরাগীরা খুব বেশি ধারণা রাখেন না। বেশ কয়েকটি দ্বীপের দেশগুলির জাতীয় খেলা হিসাবে রয়েছে ক্রিকেট, বারমুডার মত। ওয়েস্ট-ইন্ডিজ জাতীয় ক্রিকেট দল যেমন বেশ কয়েকটি আইল্যান্ডের সমন্বয়ে গঠিত এদের মাঝে বার্বাডোসের জাতীয় খেলা ক্রিকেট। কিছু দ্বীপের দেশগুলিরও জাতীয় ক্রীড়া হিসাবে স্থান পেয়েছে ক্রিকেট। আমরা আজ যে দেশগুলির বিষয়ে কথা বলব তারা সবাই আইসিসির সদস্য। আর বেশী কথা না বাড়িয়ে আমরা আরো একটু গভীর যেয়ে দেখি।

কুক আইল্যান্ডের ক্রিকেট

আমাদের তালিকার প্রথম হল নিউজিল্যান্ড উপকূলে অবস্থিত কুক আইল্যান্ড। কুক আইল্যান্ড ২০০০ সালে আআইসিসির অনুমোদিত সদস্য হয় এবং ২০০১ সালে প্যাসিফিকা ক্রিকেট চ্যাম্পিয়নশিপে তারা প্রথম অংশে গ্রহণ করে। কুক আইল্যান্ডে ক্রিকেটের উন্নয়নের মূল বিষয় হল এটি মহিলাদের খেলার উপর বেশ জোর দেওয়া হয়। বেশ কয়েকটি মহিলা লীগ পুরো ছোট দেশটিতে সারা বছর অনুষ্ঠিত হয়। অংশগ্রহণকারী মহিলা ক্লাবগুলির সংখ্যা ৬ থেকে বেড়ে বর্তমানে ২৭ হয়েছে, তারা ভানুয়াতুতে প্রথমবারের মতো টুর্নামেন্টে ৬ষ্ঠ স্থান অর্জন করেছে এবং সম্প্রতি ২০১৫ সালে প্যাসিফিক গেমসে অংশ নিয়েছে অন্য একটি দ্বীপের দেশ পিএনজি।

চিত্র: কুক আইল্যান্ডের মহিলা ক্রিকেট

ফিজি আইল্যন্ডের ক্রিকেট
.
ফিজি দ্বীপ দেশটি বিশ্বজুড়ে প্রচুর লোকের কাছে পরিচিত তবে ক্রিকেটিং জাতি হিসাবে নয়। যদিও সুন্দর সৈকত এবং অসাধারণ সূর্যাস্তের দৃশ্য ফিজির একটি নান্দনদিক দিক, তবে ফিজিতে ক্রিকেট খুব বেশি পরিচিত নয়। ক্রিকেটে ফিজির সমৃদ্ধ ইতিহাস রয়েছে, বিশেষত মহিলা দল, যারা ১৯৬৫ সাল থেকে আইসিসির সদস্য। তবে ২০১০ সালে ভানুয়াতু সফরের আগে ২০০৯ সালে পর্যন্ত প্রথম মহিলা জাতীয় দল গঠন করা হয়। দ্বীপ দেশটি ১৮৬৫ সালে ক্রিকেট খেলার নজির পাওয়া যায় তখন একটি স্থানীয় দল দর্শনার্থী রয়্যাল নেভি শিপের বিপক্ষে ক্রিকেট খেলায় অংশগ্রহণ করে।

চিত্র: ফিজির মহিলা ক্রিকেট

ভানুয়াতুর ক্রিকেট

দ্বীপের দেশগুলির মধ্যে ভানুয়াতু বেশ প্রসিদ্ধ। তারা ২০০৫ সালে আইসিসির অনুমোদিত সদস্য হয়েছিল এবং ২০০১ প্যাসিফিক চ্যাম্পিয়নশিপে টঙ্গার বিপক্ষে ক্রিকেটে আত্মপ্রকাশ করেছিল। তারা চার বছর পরে ২০০৫ সালে প্রশান্ত মহাসাগরীয় চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজন করেছিল। ভানুয়াতু প্রথম দেশ যারা ২০২০ সালে প্রথম ক্রিকেট খেলা শুরু করেছিল, কারণ কোভিড-১৯ মহামারী তাদেরকে খুব বড় পরিমাণে কোন ক্ষতি করতে পারেনি।

চিত্র ভানুয়াতু মহিলা ক্রিকেট দল

সামোয়ান দ্বীপের ক্রিকেট

সামোয়ান আমাদের তালিকার পরবর্তীটি দেশ সামোয়ান দ্বীপপুঞ্জ, এটি উত্তর আমেরিকার উপকূলে অবস্থিত। বিশ্বের বেশিরভাগ দেশের মতোই, এই দ্বীপে ক্রিকেটকে ব্রিটিশদের হাতে ধরে এসেছে। বিশেষত এইচএমএস ডায়মন্ড রয়েল নেভির জাহাজ দ্বারা প্রবর্তন করা হয়েছিল। সামোয়া ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃত্বে, দেশটি ২০০০ সালে দেশটির আইসিসির অনুমোদিত সদস্য হয় । সদস্য হবার পর থেকে সামোয়া ২০০২ সালের প্যাসিফিকা কাপ এবং ২০০৭ আইসিসি ইস্ট এশিয়া-প্যাসিফিক ক্রিকেট ৮ এর মতো বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টের আয়োজন করেছে। সামোয়া’র বিখ্যাত “টিউইলা উৎসব” এ ক্রিকেট খেলার আয়োজন করা হয়। এই উৎসবে ক্রিকেটকে সামোয়া জাতীয় খেলা হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছিল।

চিত্র: সামোয়ান দ্বীপের ক্রিকেট

জাপান ক্রিকেট

তালিকার সর্বশেষ দেশ হচ্ছে দ্বীপ রাষ্ট্র জাপান।জাপান ১৯৮৯ সালে আইসিসির অনুমোদিত সদস্য হয়। জাপানের ক্রিকেট জাপান ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন (জেসিএ) দ্বারা পরিচালিত হয় এবং এর প্রসার বিস্তার লাভ করে মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলা হিসাবে। তারা ২০০৫ টি-টুয়েন্টির মহিলা দলের আইসিসির সদস্যপদ লাভ করে। এর আগে ২০০৫ সালে তারা মহিলা বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করে। ২০১৮ সালে মহিলা ক্রিকেট দল টিটুয়েন্টির পূর্ণ সদস্যপদ লাভ করে।

চিত্র: জাপানের মহিলা ক্রিকেট দল

জাপানের মহিলা ক্রিকেট দল