আইনি ঝামেলায় পাকিস্তান দলের খেলার সরঞ্জাম বাজেয়াপ্ত হচ্ছে!

0
38814

পিসিবি প্রতিবেদন দিয়েছে যে আইল অফ ম্যান ভিত্তিক একটি কোম্পানী বর্তমানে ইংল্যান্ডে অবস্থানরত পাকিস্তান ক্রিকেট দলের মালিকানাধীন সম্পদ বাজেয়াপ্ত করতে পারে, ওই ফার্ম ও পাকিস্তানি সরকারের পুরতন এক আইনি ঝামেলার অংশ হিসাবে।

পিসিবি যুক্তরাষ্ট্রের পাকিস্তানি দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ করেছে এবং আশ্বস্থ হয়েছে যে এটা ঘটার সম্ভাবনা খুব কম। কারন পাকিস্তান দল পিসিবির প্রতিনিধিত্ব করে এবং পিসিবি একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, এটা পাকিস্তান রাষ্ট্র বা সরকার নয়। তাই এই মামলার কোন পক্ষের ক্ষতির জন্য পিসিবি দায়বদ্ধ নয় । একটি চিঠিতে বোর্ডশিট বলেছেন – পাকিস্তান দলটি আসামিদের সম্পদ এবং তাদে অভিযুক্তদের সম্পদ এবং এই দলের সম্পদ ও এবং অভিযুক্তদের সম্পদ।

যাইহোক, পিসিবি বলেছে এটা যেই অধ্যাদেশের মাধ্যমে গঠিত হয়েছিল তা থেকে এটা পরিষ্কার বলা আছে যে এটি একটি স্বায়ত্তশাসন সংস্থা ।

পিসিবি জানিয়েছে, ব্রডশিট এলএলসি এবং ইসলামিক রিপাবলিক অফ পাকিস্তান এবং পাকিস্তান জাতীয় জবাবদিহি ব্যুরো এর মধ্যস্থতা অথবা পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া নিয়ে পিসিবির কোনও ভুমিকা নেই।

তদুপরি, পিসিবি খেলাধুলা (উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ ১৯৬২ এর অধীনে প্রতিষ্ঠিত, পাকিস্তানের ক্রিকেট খেলার নিয়ন্ত্রণ, প্রশাসন, পরিচালনা ও প্রচারের একচেটিয়া স্থায়ী উত্তরসূরির একটি সংস্থা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত। পিসিবি তার সংবিধানের মাধ্যমে একটি স্বায়ত্তশাসিত সত্তা হিসাবে কাজ করে।

পিসিবি সরকার থেকে স্বতন্ত্রভাবে পরিচালনা এবং কাজ করে, নিজস্ব রাজস্ব আয় করে এবং ফেডারেল বা প্রাদেশিক সরকার বা সরকারের কাছ থেকে অনুদান, তহবিল বা অর্থ প্রাপ্তি করে না। ”

আইনী বিরোধটি ২০০০ এর দশকের শুরুর দিকে, যখন পাকিস্তানের রাষ্ট্রপ্রধান জেনারেল পারভেজ মোশাররফ বিদেশে পাকিস্তানের নাগরিকদের গোপন সম্পদের সন্ধানের জন্য ব্রডশিটকে নিয়োগ করেছিলেন। পাকিস্তানের জাতীয় জবাবদিহিতা ব্যুরো (এনএবি) ব্রডশিটের সাথে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে, যা ২০০৩ সালে শেষ হয় । যা একটা সময়ে আইনি প্রক্রিয়ার দিকে চলে যায়। লন্ডনের একটি আন্তর্জাতিক সালিশি আদালত ব্রডশিটের পক্ষে রায় দেয় এবং বলে ‘এনএবি’এই দায় পরিশোধ করবে, এবং এই ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য এনএবি দায়বদ্ধ ছিলেন। কিন্তু এই অর্থ এখনো পর্যন্ত বকেয়া আছে।

এনএবি ক্রিকেট দলের সরঞ্জামাদি বাজেয়াপ্ত হওয়ার বিষয়ে কোন ধরনের বিবৃতিতে প্রদান করেনি। পাকিস্তান দল ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিনটি টেস্ট এবং তিনটি টি-টোয়েন্টি খেলবে, ম্যানচেস্টারে ৫ আগস্ট প্রথম টেস্ট শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি অনুষ্ঠিত হবে ১ সেপ্টেম্বর।

এখন অপেক্ষার পালা আসলেই পাকিস্তান দল রাষ্ট্রের বিপক্ষের মামলার করনে কোন ধরনের সমস্যার সন্মুখীন হয় কিনা।