আমি আমার নাম নিয়ে আর কোনো নোংরামি সহ্য করবো না- ক্রিশ্চিয়ানো

0
356

রিয়ালে ফেরার গুঞ্জন নিজেই উড়িয়ে দিলেন রোনালদো, জানিয়ে দিলেন তিনি ফিরছেন না রিয়াল মাদ্রিদে’।

গত দুদিন ধরে ইউরোপিয়ান মিডিয়ায় বেশ জোরালো গুঞ্জন চলছে, রিয়াল মাদ্রিদে ফিরতে পারেন দলটির ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। লস ব্লাংকোসদের নতুন কোচ কার্লো আনসেলত্তিই নাকি সাদা জার্সিতে ফের প্রিয় শিষ্যকে দেখতে চান! পর্তুগিজ তারকার খুব কাছের বন্ধু ও স্প্যানিশ টিভি চ্যানেল এল চিরিঙ্গুইতোর সাংবাদিক এডু আগুইরির এমন সংবাদে রীতিমতো নড়েচড়ে বসে বিশ্ব। ফের বার্নাব্যুতে পর্তুগিজ মহাতারকার আগমনের কথায় উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে মাদ্রিদিস্তা শিবিরেও।

তবে, রিয়াল সমর্থকদের সেই উল্লাসের ভাটা পড়ে যখন কোচ কার্লো আনসেলত্তি এই প্রসঙ্গে কথা বলেন। রোনালদোর রিয়ালে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে যেসব গুঞ্জন ডালাপালা মেলতে শুরু করেছিল, তা নিমেষেই ছেটে দেন রিয়াল কোচ। গতকালই এক টুইটে জানিয়ে দিলেন, পর্তুগিজ তারকাকে ফেরানোর কথা তিনি কখনই ভাবেননি তিনি।

এবার বহুল আলোচিত এই গুঞ্জন নিয়ে মুখ খুলেছেন রোনালদো নিজেই। গতকাল (মঙ্গলবার) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বিশদ লিখে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করলেন সর্বকালের অন্যতম সেরা এই ফুটবলার।

যেখানে সাম্প্রতিক গুঞ্জন নিয়ে বিরক্তি প্রবলভাবেই ফুটে ওঠে। রিয়াল মাদ্রিদের প্রতি তার অনুরাগ ও ভালোবাসার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এখন তাঁর সকল ধ্যানজ্ঞান জুভেন্টাস নিয়েই। রিয়ালে ফেরার কোনওই সম্ভাবনা নেই। এখন মন দিচ্ছেন কেবল নিজের কাজেই। নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে বিশদ লেখায় রোনালদো লিখেছেন,

“যারা আমাকে চেনেন, তাঁরা জানেন, আমি আমার কাজের প্রতি কত বেশি মনোযোগী। কথা কম বলি, কাজ বেশি — ক্যারিয়ারের শুরু থেকে এটাই আমার মূলমন্ত্র। কিন্তু, গত কয়েক দিন ধরে আমার নামে যা বলা ও লেখা হচ্ছে, আমার মনে হয়েছে এ ব্যাপারে আমার মুখ খোলা দরকার।”

“যেভাবে আমার নামে কথা ছড়ানো হচ্ছে, সেটা মানুষ ও খেলোয়াড় উভয় ভাবেই আমার জন্য অসম্মানজনক। গণমাধ্যম এসব খবর ছড়ানোর মাধ্যমে উল্লিখিত ক্লাব, খেলোয়াড়, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সবাইকেই অসম্মান করছে।”

“রিয়াল মাদ্রিদে আমার কাহিনি লেখা হয়ে গেছে। সবাই জানে। শব্দে ও সংখ্যায়, শিরোপায় ও অর্জনে, শিরোনামে ও রেকর্ডে — সবাই জানে আমি রিয়ালের হয়ে কী কী করেছি। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর জাদুঘরে রয়েছে যার প্রমাণ, যা লেখা আছে ক্লাবটার প্রত্যেক সমর্থকের মনে। রিয়ালের হয়ে আমি যা যা অর্জন করেছি, আমার কাছে তাঁর চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো নয় বছর ধরে ক্লাবটার সঙ্গে আমার সম্পর্ক। যে সম্পর্কটা আমি আজীবন আমার হৃদয়ে লালন করে যাব। আমি জানি, রিয়াল মাদ্রিদের প্রত্যেক ভক্তের মনে আমার জন্য জায়গা আছে, আমার মনেও তাঁদের জন্য জায়গা আছে।”

“স্পেনের এই সাম্প্রতিক অধ্যায়ের পাশাপাশি বিভিন্ন লিগের আরও বেশ কিছু ক্লাবের সঙ্গে আমাকে জড়িয়ে ক্রমাগত খবর ও গল্প প্রকাশিত হয়েছে, কিন্তু আসল সত্যটি কেউ খুঁজে বের করার চেষ্টা নিয়েও কারও মাথাব্যথা ছিল না।”

“এখন নীরবতা ভাঙছি এই কারণে যে, আমার নাম নিয়ে আমি কাউকে খেলা করতে দেব না। আমার ক্যারিয়ার ও কাজ নিয়ে আমি মনোযোগী, যে চ্যালেঞ্জগুলোর মোকাবেলা করতে হবে, সেসবের জন্য নিবেদিত ও প্রস্তুত। বাকি সবকিছু? বাকি সবকিছু স্রেফ কথা।”

মাঠে এবং মাঠের বাহির রোনালদো ও আনসেলত্তির রসায়ন ছিল বরাবরই অন্যরকম। বলা হয়ে থাকে, পাঁচবারে বর্ষসেরা ফুটবলারের ক্যারিয়ারে আনসেলত্তি ছিল বড় টার্নিং পয়েন্ট। বারবার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মেসির কাছে শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট হারিয়ে তার আমলেই রোনালদো ব্যক্তিগতভাবে সাফল্যে দারুণ প্রত্যাবর্তন। সবমিলিয়ে কার্লো আনসেলত্তির অধীনে ১০১ ম্যাচে ১.১০ গড়ে গোল করেছেন ১১২টি। সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন ৩৯টি।