“এক রানের আক্ষেপ”

0
1192

“জিম্বাবুয়ে” আফ্রিকান এক দেশের নাম। ক্রিকেট খেলে, বড়দের সাথে নিয়মিত হারে, বাংলাদেশের প্রিয় প্রতিপক্ষ। আসলেই?

এই শতাব্দীর শুরুর গল্পটা কিন্তু একটু অন্যরকম ছিলো। হিথ স্ট্রিক, গ্রান্ট ফ্লাওয়ার, এন্ডি ফ্লাওয়ার, ক্যাম্পবেলের জিম্বাবুয়েকে সমীহ করতো না এমন দল খুঁজে পাওয়াও দুষ্কর। এরপর টাইবু, ট্রেইলর, মাসাকাদজা, চিগাম্বুরাদের জেনারেশনটাও ভালো ছিলো। কিন্তু হিথ স্ট্রিকের দলটা যেনো একটু আলাদা ছিলো। সম্ভবত, জিম্বাবুয়ের সেরা জেনারেশন গত শতাব্দীর শেষভাগ থেকে এই শতাব্দীর শুরু। ব্যাট, বল, ফিল্ডিং লড়াই করার মতোনই একাদশ নিয়েই মাঠে নামতো আফ্রিকানরা।

২০০১ সালের ফেব্রুয়ারীর ৪, কার্লটন সিরিজের ১২ নম্বর ম্যাচে পার্থে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি জিম্বাবুয়ে। একদিকে ফ্লাওয়ারস ব্রাদার্স, স্ট্রিক, ক্যাম্পবেল তো অন্যদিকে গিলক্রিষ্ট, ডেমিয়েন মার্টিন, পন্টিং, ওয়াহ ব্রাদার্স, আর ম্যাগ্রাথ, লি জুটি। লড়াই টা হাড্ডাহাড্ডি হওয়ারই কথা। হলোও তাই। সেয়ানে সেয়ানে লড়াই। কেউ কাউকে নাহি ছাড়ে, ঘরের মাঠে স্বাগতিকদের নাকানিচোবানি খাওয়াতে বড্ড পরিকর জিম্বাবুয়ে, অন্যদিকে হারের লজ্জা থেকে বাঁচতে তৎপর মাইটি অস্ট্রেলিয়া। ম্যাচের ফলাফল টা কি হয়েছিলো?

টসে জিতে শুরুতেই ব্যাট হাতে মাঠে নামে স্টিভ ওয়াহর দুর্দান্ত অস্ট্রেলিয়া। এড্যাম গ্রিলক্রিষ্ট আর মার্টিন সেট হয়েই যেনো মাঠে নেমেছিলেন। দুই ওপেনারকে সামলাতেই দিশেহারা জিম্বাবুয়ের বোলাররা। দেখতে দেখতে ওপেনিং জুটিতেই রান উঠলো পঞ্চাশ। ভয়ংকর জুটির সামনে তখন কে আসবে? দলকে বিপদ থেকে রক্ষা করতেই যেনো এগিয়ে আসলেন অধিনায়ক হিথ স্ট্রিক। দলীয় ৬৬ রানে ব্যাক্তিগত ৩০ করা গ্রিলক্রিষ্টকে ফেরালেন এন্ডি ফ্লাওয়ারের হাতে ক্যাচ বানিয়ে। এরপর পান্টারের সাথে আবারও শুরু করলেন মার্টিন।

দলীয় ১১০ রানে পন্টিংয়ের রান আউটে ৪৪ রানের জুটি ভাঙে। তবে এরপরের গল্পটাও অজিদের আধিপত্যের। সর্বকালের অন্যতম সেরা ফিনিশার মাইকেল বেভানকে নিয়ে ৯৪ রানের লম্বা জুটি গড়েন মার্টিন। বেভান ৪৪ রান করে আউট হয়ে গেলে একপ্রান্ত আগলে রেখে ঠিকই দলের ঘানি টেনে যাচ্ছিলেন ওপেনার ডেমিয়েন মার্টিন৷

শেষপর্যন্ত নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে অজিদের সংগ্রহ দাঁড়ালো ৫ উইকেট হারিয়ে ৩০২। ১৪৯ বলে  ১২ চারে ১৪৪ করে অপরাজিত থেকেই মাঠ ছাড়লেন মার্টিন। জিম্বাবুয়ের হয়ে সর্বোচ্চ ২ টি উইকেট শিকার করলেন অধিনায়ক হিথ স্ট্রিক।

অজিদের বাঘা বাঘা বোলারদের বিপক্ষে লড়ে ৩০৩ করা? অসম্ভবও বলা যায়। খড়কুটোর মতোই তো উড়ে যাবে জিম্বাবুয়ে। যদি আপনি এমনটা ভাবেন তো ভুল করছেন। “বিনা যুদ্ধে নাহি দিবো সুচাগ্র মোদিনী” এই মনোভাব নিয়েই যেনো সেদিন মাঠে নেমেছিলো আফ্রিকানরা।

শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় জিম্বাবুয়ে। ম্যাগ্রাথের বলে মাইক ওয়াহর ক্যাচ বনে শূন্য রানেই প্যাভিলিয়নে ফিরেন ওপেনার রেনি। এরপর স্টুয়ার্ট ভ্যান্স কার্লাইলকে নিয়ে আবারও নতুন করেই জিম্বাবুয়ের ইনিংস শুরু করেন এলিস্টার ক্যাম্পবেল। যদিও বেশীক্ষণ টিকতে পারেন নি তিনিও। দলীয় ৫৪ রানে ব্যাক্তিগত ২৭ রান করে ব্রেট লির শিকার হোন এই ওপেনার। তারপর এন্ডি  ফ্লাওয়ারকে নিয়ে লড়াই করার চেষ্টা করলেও আবারও কার্লাইলকে একা রেখে আউট হয়ে যান জিম্বাবুয়ের এই ব্যাটসম্যানও।

দলীয় ৯১ রানেই ৩ উইকেট চলে যাওয়ায় বেশ চাপের মুখেই পরে অতিথিরা৷ তবে আসল লড়াই যেনো তখনও বেশ বাকি ছিলো।

এন্ডি আউট হয়ে যাওয়ার পর মাঠে নামে তারই ভাই গ্রান্ট ফ্লাওয়ার। স্টুয়ার্ট কার্লাইলকে নিয়ে ইনিংস টাকে সাজানোর কাজেও লেগে যান এই জিম্বাবুইয়ান গ্রেট। দুজনেই তুলে নেন ফিফটি। দেখতে দেখতে অপ্রতিরোধ্য অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অসাধারণ এক সেঞ্চুরির দেখা পান স্টুয়ার্ট ভ্যান্স কার্লাইল। যদিও স্টিভ ওয়াহ সহজ ক্যাচ না ছেড়ে দিলে এতদূর আসাও হতোনা এই ব্যাটসম্যানের। তবে ক্যাচ ছেড়ে দেওয়াটাকে “পার্টস অফ গেম” ভেবেই এই ইনিংসের মূল্যটা ধরতে হবে অপরিসীম। যদিও তাতে শেষ টা হয়নি সুন্দর।

১১ চার এবং ১ ছয়ে ১৪৫ বলে ১১৯ করে দলীয় ২৭৮ রানে ১৬৯ রানের অসাধারণ জুটি ভেঙে ম্যাগ্রাথের বলে ওয়াহ ব্রাদার্সের অন্য ভাই মার্কের হাতে ক্যাচ তুলে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান এই সেঞ্চুরিয়ান। এরপর বেশীক্ষণ টিকতে পারেন নি গ্রান্ট ফ্লাওয়ারও। ৪৮.৫ বলে যখন ৮৬ বলে ৮৫ করা ফ্লাওয়ার রান আউট হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরেন তখন ইতিহাস রচনা করার জন্য জিম্বাবুয়ের দরকার ছিলো মাত্র ১৫ রানের। তাও কিনা ৭ বলে!

প্রথমবারের মতোন সেই সিরিজে মাঠে নামা ডগি মারিলিয়ারের সামনে ছিলো নায়ক হওয়ার সুযোগ। অপ্রতিরোধ্য ম্যাগ্রাথের বিপক্ষে বুক চিতিয়েই লড়াই করেছিলেন। শেষ বলে ড্র করার জন্য জিম্বাবুয়ের দরকার ছিলো মাত্র ২ রানের। আর জিততে হলে ৩। কিন্তু মাত্র ১ রান নিতে পারায় শ্বাসরুদ্ধকার সেই ম্যাচে ১ রানের জয় তুলে নেয় স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া। একই সিরিজে টানা ১২ ম্যাচ জয়ের কীর্তিও গড়ে ফেলে স্টিভ ওয়াহর দল। অজিদের পক্ষে সর্বোচ্চ ২ উইকেট শিকার