ওমর আকমলের নিষেধাজ্ঞা কমানোর রায়ের বিরুদ্ধে পিসিবি আপিল করবে।

0
758

ওমর আকমলের মূল তিন বছরের নিষেধাজ্ঞাকে ১৮ মাস কমানোর জন্য পিসিবি তাদের নিজস্ব আইনজীবী দ্বারা এই সিদ্ধান্তর বিরুদ্ধে সুইস কোর্ট  অফ আরবিট্রেশন ফর স্পোর্টস আদালতে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে।

এ বছরের পিএসএলকে সামনে রেখে তার কাছে দেওয়া দূর্নীতি সংক্রান্ত তথ্য পাকিস্তান বোর্ডকে প্রকাশ করতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য আকমলকে এপ্রিলে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। আকমল তার বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগ মেনে নিয়েছিল এবং বলেছিল যে পরিস্থিতির জন্য তিনি বোর্ডকে এই সংক্রান্ত তথ্য দিতে পারেননি।

পিসিবি দুর্নীতি দমন সম্পর্কিত বিষয়গুলিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করে এবং এসংক্রান্ত বিষয়ে একরকম জিরো টলারেন্স নীতিতে বিশ্বাসী। পিসিবি উমর আকমলের মতো একজন প্রবীণ ও অভিজ্ঞ  ক্রিকেটার দেশী ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দুর্নীতি দমনবিরোধী বিভিন্ন কর্মশালা ও বক্তৃতায় অংশ নেওয়ার কারনে এর পরিণতি সম্পর্কে তিনি ওয়াকিবহাল  ছিলেন। তিনি দুর্নীতি সংক্রান্ত আচরণে লিপ্ত হওয়ার পরিণতি প্রত্যক্ষ করেছেন এবং তারপরেও এই দুর্নীতি সংক্রান্ত তথ্য বোর্ডকে দিতে ব্যর্থ হয়েছেন।

পিসিবি ওমরের মত মর্যাদা সম্পন্ন একজন ক্রিকেটারকে দুর্নীতির জন্য নিষিদ্ধ হতে দেখা বিষয়টি সম্মানের চোখে দেখে না। তবে একটি বিশ্বাসযোগ্য এবং সম্মানজনক প্রতিষ্ঠান হিসাবে পিসিবি সমস্ত স্টেকহোল্ডারদেরকে একটি স্পষ্ট বার্তা পাঠাতে চায়, যে কেউ যদি কোন বিধি লঙ্ঘন করে তাহলে কোন ধরনের সহানুভূতি থাকবে না।

আকমাল তার মামলাটি দুর্নীতি দমন কমিশনের সামনে শুনানি করতে অগ্রাহ্য করার পরে এটি সরাসরি পিসিবি ডিসিপ্লিনারি প্যানেলে প্রেরণ করা হয়েছিল। তার শুনানিতে অংশ না নেবার অর্থ হচ্ছে শৃঙ্খলা কমিটির চেয়ারম্যান বিচারপতি ফজল-এ-মিরান চৌহান তার উপর যে নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছিলেন তা তিনি মেনে নিবেন।

পরবর্তীতে তিনি এই রায়টির বিরুদ্ধে আপিল করেন এবং পিসিবিকে সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারক ফকির মোহাম্মদ খোকরকে তার আপিল শুনানি করার জন্য নিয়োগ করার ব্যবস্থা করেন। প্রথম শুনানির পরে বিচারক করুণা বশত উপর তাঁর নিষেধাজ্ঞা কমিয়ে দেন। তবে পিসিবি দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাদের অভিযানের অংশ হিসাবে কঠোর শাস্তি প্রয়োগের উপর জোর দিয়েছিল।

খেলাধুলায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ পিসিবি ইতিমধ্যে ক্রীড়া ক্ষেত্রে দুর্নীতির অপরাধ আইন সম্পর্কিত বিষয়ে সরকারী কর্তৃপক্ষের কাছে একটি খসড়া প্রস্তাব পেশ করেছে, বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে যে, এটি পাকিস্তানের মধ্যে প্রণীত বিদ্যমান আইনও পর্যালোচনা করেছে খেলাধুলায় দুর্নীতি/অবৈধ হস্তক্ষেপ রোধে বর্তমান আইন একরকম অকার্যকর।

খসড়ায়, পিসিবি খেলাধুলায় দুর্নীতি, অবৈধ কারসাজি, বাজি, ম্যাচ এবং স্পট-ফিক্সিংয়ের পাশাপাশি এ জাতীয় আচরণকে সহায়তা ও সহযোগীতা করার বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব দিয়েছে; এবং এতে জড়িত থাকার কারণে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের জন্য জরিমানা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে।