ক্রিকেটে মানসিক স্বাস্থ্য কতটা জরুরি !

0
1740

ইংরেজি তে একটা প্রবাদ আছে ” Health is wealth ” সবাই তা অনুসরণ ও করে কিন্তু আমরা বাংলাদেশীরা কতটুকু জানি যে ” Health is wealth ” also mental health is wealth?

শারীরিক সুস্থতাই যদি সবকিছু হয় তাহলে কেনো রাগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে না সাকিব তামিম রা?

যদি আপনাকে প্রশ্ন করা হয় শারীরিক অসুস্থতার জন্য ডাক্তার কবে দেখিয়েছেন বা হেলথ চেকআপ করিয়েছেন? তাহলে হয়ত আপনি স্বাভাবিক ভাবেই উত্তর দিবেন। কিন্তু যদি আপনাকে জিজ্ঞেস করা হয় মানসিক স্বাস্থ্যের ডাক্তার কবে দেখিয়েছেন বা চেকআপে করেছেন তখন আপনি উল্টা প্রশ্ন করবেন কেনো আমি কি পাগল?

আমাদের দেশে এটা স্বাভাবিক কারণ মানুষ শারীরিক স্বাস্থ্য নিয়ে যেভাবে চিন্তা করে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে তেমন ভাবে চিন্তা করেন না। অনেকেই এখন ও জানেন না মানসিক স্বাস্থ্য বলতেও কিছু আছে যা নিয়ে কাজ করতে হয় সমস্যা হলে কাউন্সিলিং করাতে হয়।

হ্যাঁ ঠিক এই কারনেই ক্রিয়া ক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করা হয় না তাদের সুবিধা অসুবিধা জানার চেষ্টা করা হয় না । যদি ও বিসিবি নামীদামী কিছু সাইকিয়াস্ট্রিট দিয়ে ক্রিকেটারদের ক্লাস করিয়েছে তবু সেটা স্বল্প সময়ের জন্য।

বাংলাদেশ ক্রিকেটে ২২ গজে এবং ২২ গজের বাহিরে ঘটেছে অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু ঘটনা সম্প্রতি সাকিব এর স্টাম্প ভাঙা বিষয় বিশ্ব ক্রিকেটের নজর কেড়েছে কেউ প্রশংসা করেছে কেউ তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

আমাদের ক্রিকেটকে যারা প্রতিনিধিত্ব করেন তাদের মাঠ ও মাঠের বাইরে বেশ কিছু ঘটনা রয়েছে যেখানে আমাদের খেলোয়াড়দে নিজেদের উপর নিয়ন্ত্রণ হারাতে গিয়েছে আমরা কিছু ঘটনা আলোচনা করার চেষ্টা করব

তামিম ইকবাল

তামিম ইকবাল বাংলাদেশের এ পর্যন্ত সবচেয়ে সেরা ওপেনার বাংলাদেশের বর্তমানে সেরা খেলোয়াড় দের মধ্যে একজন। বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের তেমন স্লেজিং করেতে দেখা যায় না। প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে যেই কয়েকবার স্লেজিং এর ইনসিডেন্ট হয়েছে তাতে তামিম ইকবালকে যুক্ত হতে দেখা গিয়েছে। প্রতিপক্ষকে উত্তেজিত করতে সেজিং তত্ত্ব কার্যকর বলে অনেকে মনে করে কিন্তু অনেক সময় এটি মাঠে বাজে পরিস্থিতি সৃষ্টি করে।

শাহাদাত হোসেন

শাহাদাত হোসেন রাজীবকে আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দেখা যায় না। তবুও তার কান্ডের কারণে সে বেশ পরিচিত। মাঠে সতীর্থ খেলোয়াড়ের গায়ে হাত তোলার কারণে পাঁচ বছরের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছিলেন তিনি। গৃহপরিচারিকার উপরে নির্যাতনের কারণে কাঠগড়ায় পর্যন্ত তাকে পৌঁছাতে হয়েছে।

সাব্বির রহমান

সাব্বির রহমানের বিতর্ক যেনো পিছু ছাড়ে না। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে রাজশাহীতে জাতীয় ক্রিকেট লিগ চলাকালে মাঠের বাইরে এক দর্শককে লাঞ্ছিত করেন এই ঘটনায় ঘরোয়া ক্রিকেটে ছয় মাসের জন্য নিষেধাজ্ঞাসহ ২০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচ চলাকালে ড্রেসিং রুমে মেহেদী হাসান মিরাজের সঙ্গে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে মিরাজের গায়েও হাত তোলে। এ কারণে আফগানিস্তানের বিপক্ষে তৃতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচের একাদশ থেকে বাদ পড়েন। ২০১৬ সালের বিপিএলে চট্টগ্রামের টিম হোটেলে নিজ কক্ষে নারী অতিথি নিয়ে যাওয়ায় চুক্তির ৩০ ভাগ (১২ লাখ) টাকা জরিমানা গুনেতে হয়েছে।

তার সব বিতর্ক পেরিয়ে যখন দলে ফিরতে চাইছেন তখন ই করে বসলেন ভুল জড়িয়ে গেলেন বিতর্কে জানা গেছে কয়েকদিন আগে ডিপিলএ এ শেখ জামাল ও লিজেন্ডস অব রূপগন্জের মধ্যকার ম্যাচে ইলিয়াস সানি যখন ব্যাটিং এ নামছিলেন তখন সাব্বির রহমান তাকে অশালীন ভাষা দিয়ে স্লেজিং করেন কোনো প্রমাণ না থাকায় বিসিবি তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

মুশফিকুর রহিম

মুশফিকুর রহিম,বঙ্গবন্ধু প্রিমিয়ার লিগে ঢাকার হয়ে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন হাই ভোল্টেজ ম্যাচ থাকায় তিনি খুব নার্ভাস ছিলেন এবং এই নার্ভাসনেস রাগ হয়ে উপরে পড়লো তার সতীর্থ খেলোয়াড় নাসুম এর উপর পর পর ২বার এক ই ম্যাচে গায়ে হাত তুলতে গেলেন মি.ডিপেন্ডেবল সতীর্থ নাসুম এর উপর।

এগুলা নিয়ে কাজ করবার আদৌও সুযোগ আছে কি বিসিবির?

অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটাররাদের নিয়ে বেশ কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা রয়েছে মাঠ ও মাঠের বাইরের ঘটনায়। তবে এ সব ঘটনা ক্রমশ হ্রাস পেয়েছে তাদের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা গুলো। কারণ ২০০৬ সালের পরে দলের সাথে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট বোর্ড একজন করপ সাইকিয়াস্ট্রিট নিয়োগ দিয়েছে।

মাঠে প্রচুর স্লেজিং করলেও তারা বলেছেন তারা ভিতরে ভিতরে থাকে স্থির , স্লেজিং শুধুই একটি অস্ত্র প্রতিপক্ষ ক্রিকেটারদের মানসিক ভাবে ভেঙে ফেলার জন্য।

এতেই বোঝা যায় মানসিক স্বাস্থ্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু আমাদের দেশে মানসিক স্বাস্থ্য ও ভাবে গুরুত্ব পায় না ।

মানসিক স্বাস্থ্য ক্ষেত্র বিশেষে শারীরিক স্বাস্থ্যর চেয়ে ও বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়। কেননা মানসিক ভাবে যদি পজিটিভ থাকেন, সুস্থ থাকেন তাহলে তার শারীরিক সমস্যা গুলো অনেকাংশেই কম প্রভাব ফেলে। অনেক সময় আমাদের ক্রিকেটার রা মাঠে নামলে তাদের অঙ্গ ভঙ্গিতেই বোঝা যায় তারা পজিটিভ কিছু ভাবছেন না যার প্রভাব পড়ে সরাসরি খেলায়।