জাপান ক্রিকেট এসোসিয়েশনের ‘ক্রিকেট ফর গুড ইনেশিয়েটিভ’ এওয়ার্ড অর্জন

0
4929

জাপান ক্রিকেট এসোশিয়েশন তাদের টাইফুন হিজিবিস পুনোরুদ্ধার প্রকল্পের জন্য ‘ক্রিকেট ফর গুড ইনেশিয়েটিভ’ পু্রুস্কার জিতেছে‌।

জাপানের পুরো ক্রিকেট সম্প্রদায়ের তিন শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক ত্রাণ তৎপরতায় অংশ নিয়েছেন!

এই পুরষ্কার এমন একটি প্রকল্প নিয়ে কাজ করে যেখানে ক্রিকেটকে সামাজিক পরিবর্তন বা উন্নয়নের জন্য বাহন হিসাবে ব্যবহৃত হয়। মহিলা ক্ষমতায়ন, স্বাস্থ্য বা শিক্ষা এজাতীয় বিষয় উন্নয়নের জন‍্য প্রকল্পটি সমাজের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের এবং মানুষের বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে এবং সামাজিক বিকাশের সমস্যাগুলি সমাধান করার জন্য ক্রিকেটকে একটি প্ল্যাটফর্ম হিসাবে ব্যবহার করবে।

জাপানের যুব দল দক্ষিণ আফ্রিকার আইসিসি অনূর্ধ্ব -১৯ বিশ্বকাপ ২০২০-এর জন্য কোয়ালিফাই করে  ইতিহাস তৈরি করেছে, যা দেশের যে কোনও ক্রিকেট দলের হয়ে বিশ্ব পর্যায়ে প্রথম উপস্থিতি। ইভেন্টটির প্রস্তুতির না নিয়ে, তরুণ এই দলটি এবং তাদের কোচের সামনে বড় একটা প্রতিবন্ধকতা এসে দাঁড়িয়েছে টাইফুন হগিবিসের কারনে বিধ্বস্ত হওয়া শহরের জঞ্জাল গুলি পরিষ্কার করা।

হাজিবিস ২০১৯ সালের অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে জাপানে আঘাত করেছিল, যার ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। এ টাইফুনে দেশব্যাপী ৯৮ জন প্রান হারায় এবং আনুমানিক ১৫ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়। এটি সাম্প্রতিক সময়ে দেশে সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়।

প্রভাবিত শহরগুলির মধ্যে একটি ছিল জাপানের ক্রিকেটের আবাসস্থল সানো। রাস্তাগুলি জলাবদ্ধ হয়েছে, ২৬০০ এরও বেশি বাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে এবং শিল্পগুলি ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। এই বহু-সাংস্কৃতিক নগরটির সম্প্রদায় গত দশকে ক্রিকেটকে গ্রহণ করেছে। এ অঞ্চলের লোকদের সাথে জাপান ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন, দেশজুড়ে খেলোয়াড় এবং তাদের পরিবার একত্রিত হয়ে এক অসাধারণ টিম-ওয়ার্ক প্রদর্শন করেছে।

অনূর্ধ -১৯ স্কোয়াড টাইফুনের পরে বিধ্বস্ত শহর পরিষ্কার এবং পুনর্নির্মাণের প্রচেষ্টাতে সময় দেবার কারনে তাদের কমপক্ষে দুটি অনুশীলন সেশন বাতিল করতে হয়েছিল‌। শু নোগুচি, রেজি সুটো এবং তার ভাই কাজুয়ামাসা এবং শোটারো তাকাহশির নেতৃত্বে স্থানীয় সানো খেলোয়াড়রা এই কাজে নেতৃত্ব দিয়েছিল, আরও বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় তাদের বাবা-মাকে সাথে নিয়ে এ কর্মযজ্ঞে অংশ নিয়েছে। -১৯ এর প্রশিক্ষক ডুগল বেডিংফিল্ড যিনি জাপান ক্রিকেট কমিউনিটি ক্রিকেট ব্যবস্থাপক, এসোসিয়েশনের সকল সদস্যের সাথে স্বেচ্ছাসেবীদের নিয়ে টাইফুনের পরের দুই মাস সপ্তাহে তিনটি বিকেলে এই সংস্কারের জন্য কাজ করেছেন।

দেশের প্রায় সমস্ত জাতীয় পুরুষ এবং মহিলাদের ক্রিকেটার এখানে অংশগ্রহণ করিয়েছিল সোটা ওয়াদা ওসাকা থেকে এসে যোগ দেন। টোকিও ক্লাবগুলি অ্যাডোর সিসি, ওয়েভার্নস সিসি, টাইগারস সিসি, ম্যাক্স সিসি, চিবা শার্কস, টোকিও ওম্বাবাটস, আলফা কোয়াশার্স, ব্লু মেন এবং টোকিও ফ্যালকনস তারা সবাই মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাদ দিয়ে তাদের প্রতিনিধিদের প্রেরণ করেছিলেন।

এই কঠিন সময়ে, ওখানের ক্রিকেট পিছনে পরেছিল। সানো আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মাঠ তুলনামূলকভাবে রক্ষা পেয়েছিল, স্টোরেজ শেডগুলি প্লাবিত হয়েছিল, তবে সানো জুনিয়র ক্রিকেট ক্লাবের সদস্যরা এক দিনের মধ্যে এটি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে মাঠটি জরুরী হেলিপোর্ট সাইট হিসাবে ব‍্যাবহৃত হবে।

চারটি সানো রিভার গ্রাউন্ডে যেখানে প্রচুর ক্রিকেট খেলা হয় তা বাকি মৌসুমের জন্য বাতিল করা হয়েছিল। জাপান কাপ ফাইনাল, যেখানে ৪০ দল প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় টাইফুনটি আঘাত হানার জন্য প্রথমবারের জন্য এর ফাইনাল বাতিল করা হয়েছিল। একক দিনের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি, নতুন মহিলা জে-বাশ এবং মহিলা লীগের গ্র্যান্ড ফাইনালও বাতিল করা হয়েছিল।

অনূর্ধ-১৯ বিশ্বকাপের প্রশিক্ষণ উল্লেখযোগ্য ভাবে কমানো হয়েছিল, বিশেষত টাইফুনের পরের সপ্তাহগুলিতে, কারণ শহরের এমন কষ্টের সময়ে তারা খেলাধুলা করা উপযুক্ত বলে মনে করেনি।

যে শহরটি ক্রিকেটের জন্য এত সমর্থন করেছিল, ক্রিকেট সম্প্রদায় তর এই  খারাপ সময়ে তা ফিরিয়ে দিতে কোনও দ্বিধা করেনি।

খেলোয়াড়রা এ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে অনন‍্য‍‌ নজির স্থাপন করে, খেলাধুলার শক্তি দেখিয়ে দিয়েছে। এটি সাংস্কৃতিক প্রতিবন্ধকতাগুলি ভেঙে ফেলতে সহায়তা করেছিল এবং সানো শহরকে ক্রিকেট আন্তর্জাতিক আচরণ আরো মানবিক উপায়ে দেখিয়েছিল।