নিষেধাজ্ঞায় পড়লো ১৪ ফুটবলার

0
318

স্পট ফিক্সিং বা ম্যাচ পাতানোর দায়ে নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েছে আরামবাগ ক্রীড়া সংঘ। নিষেধাজ্ঞায় পড়েছে ফুটবলাররাও। এর মধ্যে দুই ফুটবলার হলেন ডিফেন্ডার কাজী রাহাদ ও ফরোয়ার্ড মিরাজ মোল্লা। তবে এই দুজনের একজনও জানেন না তারা কি কারণে নিষেধাজ্ঞার কবলে পরলো।

এক বা দুই নয়, আরামবাগ ক্রীড়া সংঘের একে একে ১৪ জন দেশি-বিদেশি ফুটবলকে বিভিন্ন মেয়াদে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে লাইভ বেটিং, ম্যাচ ফিক্সিং, ম্যাচ ম্যানিপুলেশন ও অলনাইন বেটিংয়ের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এই নিষেধাজ্ঞা কবলে পরেছে।

নিষেধাজ্ঞার এই সিদ্ধান্তে একেবারেই হতবাক বাংলাদেশ অনুর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে খেলা ফুটবলার কাজী রাহাদ। এক রাশ স্বপ্ন নিয়ে আরামবাগ ক্রীড়া সংঘে যোগ দিয়েছিলেন এই ডিফেন্ডার। প্রথম বারের মত এবারই প্রিমিয়ার লিগে খেলেছেন তিনি। রক্ষণ ভাগে প্রতিভার ছোঁয়া দেখিয়ে বেশ নজরও কেড়েছেন। তবে সব স্বপ্ন যেন মুহুর্তেই ধূলিসাৎ হয়ে গেল রাহাদের। তিন বছর বিরত থাকতে হবে সব ধরণের ফুটবল থেকে। কিন্তু কি কারণে এমন নিষেধাজ্ঞা সেটা জানেন না তিনি। ম্যাচ ম্যানিপুলেশন ও অলনাইন বেটিংয়ের সাথে জড়িত না থাকার কথা জানিয়েছেন তিনি।

“আমি জানি না আসলে আমি কি করেছি। প্রথম লেগে যারা ফিক্সিংয়ে জড়িয়েছিল তাদেরকে তো দ্বিতীয় লেগে দলে রাখা হয়নি। আমি তো পার্ফরমেন্স করেই দলে ছিলাম। এটা আমি মেনে নিতে পারতেছি না। অনুর্ধ্ব-১৯ জাতীয় দলে খেলার পর প্রথম বারের মত প্রিমিয়ার লিগে খেলতে আসছি। আমি-মিরাজ বলতে গেলে এখনও ছোট, আমরা অনেক কিছুই বুঝি না আর সেই আমরা এসব বেটিংয়ে জড়াব এটা ভাবতেই পারছি না।”

কাজী রাহাদের মতই তরূন ফুটবলার ফরোয়ার্ড মিরাজ মোল্লা। এবারের লিগ দিয়েই পেশাদার ফুটবলে পা রেখেছেন এই ১৭ বছর বয়সী ফুটবলার। প্রথম বারের মত লিগে অংশ নিয়েই পরতে হল দুই বছরের নিষেধাজ্ঞায়। তবে যে অনলাইন বিটিংয়ের কারনে নিষিদ্ধ হয়েছেন সে বিষয়ে তার কোনো ধারণাই নেই বলে জানিয়েছেন মিরাজ মোল্লা।

“প্রথম পর্বে আমি ম্যাচই খেলেছি ২-৩টি। বেশিরভাগ সময়েই ছিলাম চোটে। প্রথম ভাগে যারা কর্মকর্তা ছিলেন তাদের সঙ্গে খুব বেশি ঘনিষ্টতা ছিল না। কিছুক্ষণ আগে এক বন্ধুর মাধ্যমে জেনেছি আমাকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মাত্রই ফুটবল শুরু করলাম। ফেডারেশন আমাকে যে কারণ দেখিয়ে নিষিদ্ধ করেছে সে বিষয়ে আমার কোনো ধারণাই নেই। আমার নিষিদ্ধ হওয়ার বাবা-মার কাছে পৌঁছে গেছে। তাঁরা সবাই কান্নাকাটি করছেন। এখন ফেডারেশনের কাছে গিয়ে কোথায় কার কাছে গিয়ে আপিল করব সেটাইও জানি না।”

তবে সুযোগ থাকছে আপিল করার, বাফুফের নিকট আপিল করতে পারবেন নিষেধাজ্ঞায় পরা ফুটবলাররা। আপিলে নির্দোষ প্রমাণিত হলে আবারও এই তরূণ ফুটবলারদের মাঠে দেখা যেতে পারে।