ফিলিস্তিনের বিপক্ষে ২-০ হার বাংলাদেশের

0
500

প্রথমার্ধে অগোছালোর পর দ্বিতীয়ার্ধেও নিজেদের গুছিয়ে নিতে পারেনি বাংলাদেশ। নতুন কৌশলে মাঠে নেমে পুরা ম্যাচে একবারও প্রতিপক্ষে গোল পোস্টে শট নিতে পারা বাংলাদেশ হার দিয়ে শুরু করল তিন জাতি ফুটবল টুর্নামেন্ট।

সোমবার রাতে কিরগিজস্তানের স্পার্তাক স্টেডিয়ামে তিন জাতি ফুটবল টুর্নামেন্ট নিজেদের প্রথম ম্যাচে ফিলিস্তিনের কাছে ২-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। ফিলিস্তিনের হয়ে গোল দুটি করেছেন লায়েথ খায়ুব ও ইয়াসার হামদ।

ফিলিস্তিনের কাছে হারের মাধ্যমে শেষ চার পাঁচ ম্যাচের চারটিতেই হারের স্বাদ পেল বাংলাদেশ, বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচে আফগানিস্তানের সাথে ১-১ গোলে ড্র করেছিল জামাল ভুঁইয়ারা।

ম্যাচের ঠিক একদিন আগে জেমি ডে জানিয়েছিলেন, ফিলিস্তিনের বিপক্ষে নতুন কৌশল প্রয়োগ করবেন। কিন্তু মাঠে তার ছিটেফোটাও দেখা মেলেনি। যদিও ম্যাচের শুরু থেকে ৩-৪-৩ ফর্মেশনে খেলান জেমি ডে। তিন সেন্টার ব্যাকের পাশাপাশি ইয়াসিন ও বিশ্বনাথকে খানিকটা উপরে খেলিয়েছেন জেমি। তবে বেশিক্ষণ এই ফর্মেশন ধরে রাখতে পারেননি। ফিলিস্তিনের আক্রমণের ধার বাড়ার সাথে সাথে রক্ষণ ভাগেই বেশি মনোযোগ দেয় বাংলাদেশ।

অন্যদিকে নিজেদের শেষ ম্যাচে কিরগিজস্তানের কাছে ১-০ গোলে হারা ফিলিস্তিন এ ম্যাচে শুরুতে ধীর গতির ফুটবল খেলে। তবে সময় বাড়ার সাথে সাথে নিজেদের গুছিয়ে নেয় ফিফা র‍্যাংকিংয়ের ১০২ নাম্বারে থাকা দলটি। ম্যাচের ১৫ মিনিটে প্রথম বারের মত বাংলাদেশের রক্ষণ কাঁপান ফিলিস্তিন ফরোয়ার্ড মাহমুদ ঈদ। ২৫ গজ দূর থেকে তাঁর জোরালো শট লক্ষ্য খুঁজে পায়নি অল্পের জন্য। ২০ মিনিটে মাহমুদের প্রায় একই রকম আরেকটি শট লক্ষ্যে থাকলে গোল হজম করতে হতো বাংলাদেশকে।

তবে ৩৩ মিনিটে আর হতাশ হতে হয়নি ফিলিস্তিনকে। গোলরক্ষক সোহেল ও ডিফেন্ডারদের ভুলে পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। নিজেদের অর্ধ থেকে লম্বা ক্রসে বাংলাদেশের ডি-বক্সের বাইরে বল পান মাহমুদ ঈদ। গোলরক্ষক সোহেল এগিয়ে আসছেন দেখে বল সোহেলের মাথার ওপর দিয়ে চিপ করেন মাহমুদ। গোল পোস্টের দিকে ধাবমান হওয়া বলকে হাল্কা ছোঁয়ায় জালে জড়ান লায়েথ খারুব।

প্রথমার্ধেই দুই গোলে এগিয়ে যেতে পারত ফিলিস্তিন কিন্তু সোহেলের দুর্দান্ত সেভে এগিয়ে যেতে পারেনি। ডান পাশ থেকে মাহমুদ ঈদের বাকানো ফ্রিকিক থেকে প্রথম গোল করা লায়েথ খায়ুব দারুণ ভাবে মাথা ছুয়ালেও লাফিয়ে হাতের স্পর্শে বল বাইরে ঠেলে দেন শহিদুল আলম সোহেল।

বিরতি থেকে ফেরার মিনিট খানেকের মাথায় দুই গোলে এগিয়ে যায় ফিলিস্তিন। বাম পাশ থেকে মাহমুদ ঈদের হাওয়ায় ভাসানো ক্রস বক্সের মধ্যে সামান্য লাফিয়ে হেডে লক্ষ্যভেদ করেন ইয়াসার হামদ। ৫৮ মিনিটে ইয়াসার হামদের বক্সের বাইরে থেকে দূর পাল্লার শট জায়গায় দাঁড়িয়ে ঠেকিয়ে দেন সোহেল।

৭১ মিনিটে গোলরক্ষককে একা পেয়েও গোল করতে পারেনি ফাদি জিদান। মাঝ মাঠ থেকে ওদোই খারুভের বাড়ানো বল নিয়ে বক্সের মধ্যে ঢূকে পড়েন জিদান, সোহেলকে একা পেয়ে ডান পায়ের জোরাল শট নিলেও তা জালের দেখা পায়নি।

৮৪ মিনিটে সোহেল রানার বদলি হিসেবে প্রথম বারের মত বাংলাদেশের জার্সিতে মাঠে নামেন কানাডা প্রবাসী মিডফিল্ডার রাহবার খান। মাঠের নামার পর রাহবার খানকে খানিকটা আত্মবিশ্বাসী মনোভাবে দেখা গিয়েছে। শেষ মুহুর্তে সতীর্থদের উদ্দেশ্যে দুইটা ফরোয়ার্ড পাস বাড়িয়েছিলেন রাহবার কিন্তু তাতেও গোলের ব্যবধান কমাতে পারেনি বাংলাদেশ।

ফিলিস্তিনের বিপক্ষে এই ম্যাচ দেখতে কিরগিজস্তানের স্পার্তাক স্টেডিয়ামের গ্যালারি বেশ কিছু প্রবাসী বাংলাদেশি এসেছিলেন। যারা লাল-সবুজের পতাকা হাতে নিয়ে জামাল ভুঁইয়াদের সমর্থন করেছেন।

আগামী ৭ সেপ্টেম্বর স্বাগতিক কিরগিজস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠে নামবে বাংলাদেশ।।