বিদায়ও তার নীরবে

38
128

এটা যে তার বিদায়ী টেস্ট তা জানা ছিলনা। সবাই আরো কটা দিন থেকেই যাবেন হুট করে সিদ্ধান্ত। এই টেস্টের স্কোয়াডে আসাও তেমনই না থেকেও পরে উড়লেন জিম্বাবুয়ের ফ্লাইটে। এরপরে তো একাদশেই। দলের ওমন চরম বিপদ থেকে টেনে তোলা পুরো ক্যারিয়ারে এক কাজটাই করেছেন বারবার, বহুবার।

নিজের পঞ্চাশতম টেস্ট উপলক্ষটা রাঙালেন শতকেই। উদযাপনেও ভিন্নতা আকাশের দিকে তাকিয়ে জানালেন, ‘সব তোমারই খেল!’ আসলেই তো রিয়াদ, সব তারই খেল। এভাবে স্কোয়াডে আসা, তারপর একাদশে, একটা দেড়শত রানের ইনিংস। সব তারই জন্যে উৎসর্গ।

রিয়াদের ওমন ইনিংস দেখে যদি পরিসংখ্যানে চোখ রাখেন দেখবেন রিয়াদের টেস্ট অভিষেকের পর থেকে খেলেছেন ৬৮২ ক্রিকেটার। তবে ‘ব্যাটিং-বোলিং’ দুই ক্ষেত্রেই রিয়াদের চেয়ে বেশি অবদান রেখেছেন মাত্র চারজন টেস্ট ক্রিকেটার।

২০০৯ সালের উইন্ডিজ ট্যুর রিয়াদের অভিষেকের দিকে যদি নজর দেন, দেখবেন বোলার হিসেবেই তার অভিষেক এবং যে অল্পবিস্তর ব্যাটিংও পারেন। অভিষেকেই টেস্টেই আট উইকেট, ইনিংসে ফাইফার। একেবারে আদর্শ শুরু যেকোনো বোলারের জন্য। অথচ ৫০ টেস্ট পর পুরাদস্তুর ব্যাটসম্যান করেছেন সেঞ্চুরি। রজনীশ জানালেন, টেস্ট ইতিহাসে রিয়াদই একমাত্র যার টেস্ট অভিষেক শুরু ফাইফারে আর শেষ সেঞ্চুরিতে।

আটে নেমেছেন করেছেন সেঞ্চুরি রিয়াদের পুরো টেস্ট ক্যারিয়ারই এমন। যা করেছেন তারচেয়েও বেশি করতে পারতেন, যা দেখাননি তারচেয়েও বেশি দেখাতে পারতেন। টেস্ট ক্যাপটা পুরনো রংচটা হয়নি, খেলেননি শখানেক টেস্ট। তাতে কী, রিয়াদ তো দাগ কেটে হাজারো ক্রিকেট ভক্তদের হৃদয়ে। যে দাগ মনে করাবে স্যাডন পার্ক, মিরপুর কিংবা আজকের হারারে।

বিদায়ের আগে সঙ্গে জুড়ে কিছু রেকর্ডস অল্পের জন্য ভাঙা হয়নি নবম উইকেট জুটির বিশ্বরেকর্ড। তবে বলে  আট বা তার নিচে নেমে ২০ ইনিংস ব্যাট করা ক্রিকেটারদের মধ্যে সেরা গড় রিয়াদেরই।

অনেককিছুতেই শেষে ছিলেন টেস্ট বিদায়ে গার্ড অব অনার নেওয়াতে বাংলাদেশের প্রথম হলেন। সাদা পোষাক ছাড়লেন, এবার বাকি সব রংচটা পড়ুক বাংলার রঙিন পোষাকেই। একটা যাত্রা শুরু এভাবেও থামা যায়, এভাবেও বিদায় নেওয়া যায় ,এভাবেও নিরবে বার্তা রাখা যায়। বিদায় নিভৃতচারী ধন্যবাদ।

38 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here