বিশ্বমঞ্চে বাংলার নবাব

137
929

গোল বলের ক্রিকেটের সবথেকে মর্যাদার আসর হলো বিশ্বকাপের আসর। আরো খোলাসা করলে ওয়ানডে বিশ্বকাপ সবচেয়ে বেশি জায়গা করে নেয় সবার মনে, সবচেয়ে বেশি রঙ ছড়ায়, রোমাঞ্চের সৃষ্টি করে! সেই মর্যাদার আসরে বাংলাদেশ অংশ নিয়েছে মোট ছয়বার, যার চারটিতেই খেলেছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান।

২০১৯ বিশ্বকাপে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার হিসেবে বিশ্বকাপের আসরে টানা তৃতীয়বারের মতো খেলতে নেমেছিলেন সাকিব। বিশ্বমঞ্চে জ্বলে উঠতে না পারার এক কুখ্যাতি ছিল সাকিব আল হাসানের। যা ছিল বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার হিসেবে তার নামের প্রতি বেমানান। ছিলেন না ২০১৯ বিশ্বকাপ উপলক্ষে অফিসিয়াল ফটোসেশনে! বিশ্বমঞ্চে জ্বলে উঠতে না পারায় সাকিবের উপর সমালোচনার তীর ছুটে আসতেছিল, ফটোসেশনে না থাকা ছিল সেই তীরে একটুখানি বিষের ছোঁয়া। যে তীর বিদ্ধ করবে বাংলার ক্রিকেটের নবাবকে। কিন্ত নামটা যে সাকিব আল হাসান! কোনো সমালোচনা যিনি গায়ে মাখেন না, যাকে বিদ্ধ করতে পারে না কোনো তীর।

কখনো কখনো কিছু না বলেও অনেক কিছু বলা যায়, যেমনটা বলেছেন সাকিব। সকল সমালোচনার জবাব দিয়েছেন মাঠে, ব্যাট হাতে! উইলোর টুকটুক শব্দে সুর তুলেছেন প্রতিনিয়ত! নিজেকে বিশ্বমঞ্চে প্রমাণের এই সুযোগ হাতছাড়া করতে চান নি তিনি। কখনো কখনো সুযোগ না পেয়েও অনেক বড় সুযোগ পাওয়া যায়। সেই সুযোগকে খুঁজে বের করে সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে পারেন না সবাই, যারা পারেন তাদেরকেই আমরা বলি সুপারম্যান! হ্যাঁ, তিনি সাকিব, তিনি বাংলার সুপারম্যান! আইপিএলে সুযোগ পাচ্ছিলেননা বেস্ট ইলেভেনে। এই সুযোগে নিজেকে প্রস্তুত করলেন দেশের জন্য, বিশ্বমঞ্চে পারফর্মের জন্য! ওজন কমিয়ে আরো ফিট হলেন, দেশ থেকে উড়িয়ে আনলেন নিজের মেন্টর সালাউদ্দিন স্যারকে। প্রতিনিয়ত কাজ করেছেন হায়দ্রাবাদ টিম ম্যানেজমেন্টের সাথে!

আইনস্টাইনের একটা বিখ্যাত উক্তি আছে, ” ম্যান ইজ দ্যা আর্কিটেক্ট অব হিজ ওউন ফরচুন”! মানুষ চাইলেই তার ভাগ্যকে পরিবর্তন করতে পারে তার কর্ম দ্বারা, পরিশ্রমের বলে। রক্তে-মাংসে গড়া সাকিবই বা এর বিপরীত হবেন কেনো? তিনি পরিশ্রম করেছেন, ফলও পেয়েছেন হাতেনাতে! আগের তিন বিশ্বকাপে সর্বসাকুল্যে ৫৪০ রান করা সাকিব এবার আট ইনিংসেই ছিয়াশি গড়ে করেছেন ৬০৬ রান! দুই শতক আর পাঁচ অর্ধশতকে এই রান করা সাকিবের বিশ্বকাপে সর্বনিম্ন রান ৪১! তার সর্বনিম্ন রানের মাধ্যমেই বোঝা যায় কত দারুণ একটা বিশ্বকাপ গেছে তার! সাথে বল হাতে নিয়েছেন ১১টি উইকেট! ছিলেন ম্যান অব দ্যা টুর্নামেন্টের দৌড়েও! যদিও টুর্নামেন্টসেরার মুকুট পড়া হয় নি তার, তবুও জায়গা পেয়েছেন বিশ্বকাপের সেরা একাদশে। একমাত্র বাংলাদেশি এবং একমাত্র স্পিনার হিসেবে জায়গা পেয়েছেন তিনি। নিজের প্রিয় তিন নম্বর পজিশনেই সুযোগ পেয়েছেন তিনি।

137 COMMENTS

  1. Terrific work! This is the type of information that should be shared around the web. Shame on the search engines for not positioning this post higher! Come on over and visit my site . Thanks =)

  2. I think this is one of the most vital info for me.
    And i’m glad reading your article. But wanna remark on few general things,
    The web site style is ideal, the articles is really excellent : D.
    Good job, cheers

  3. It’s a shame you don’t have a donate button! I’d certainly donate to this outstanding blog!

    I suppose for now I’ll settle for bookmarking and adding your RSS feed to my Google account.

    I look forward to fresh updates and will share this blog with
    my Facebook group. Chat soon!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here