রাজার খেলায় রাজকুমার যারা

0
7460

টেস্ট ক্রিকেটকে বলা হয় ক্রিকেটের রাজকীয় ফরম্যাট! এই রাজকীয় ফরম্যাটে রাজকুমারের মতোই অভিষেক ঘটেছে অনেকের। সাদা পোশাকের ক্রিকেটে অভিষেকেই রঙ ছড়ানো ক্রিকেটারের সংখ্যাও নেহাত কম নয়।

টেস্ট ক্রিকেটের দেড়শ বছরের ইতিহাসে অভিষেকেই সেঞ্চুরি করার ঘটনা ঘটেছে ১০৮ টি, যা করেছেন ১০৬ জন ব্যাটসম্যান! আফগানিস্তান ব্যাতিত টেস্টখেলুড়ে সকল দেশই এই সম্মাননার সাথে জড়িত।

সর্বপ্রথম অভিষেকেই সেঞ্চুরি করার কৃতিত্ব অর্জন করেন অস্ট্রেলিয়ার চার্লস ব্যানারম্যান। ১৮৭৭ সালের ১৫ই মার্চ, ইতিহাসের প্রথম টেস্টে মেলবোর্নে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অপরাজিত ১৬৫ রানের ইনিংস খেলেন তিনি।
সর্বশেষ এই কীর্তিগাঁথা রচনা করেন পাকিস্তানের আবিদ আলী। ২০১৯ সালের ১৪ই ডিসেম্বর পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সফরকারী শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অপরাজিত ১০৯ রানের ইনিংস খেলে এই কীর্তির অধিকারী হন।

অভিষেকেই সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস খেলার কৃতিত্ব ইংল্যান্ডের আর. ই. ফস্টারের। ১৯০৩ সালের ১১ই ডিসেম্বর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অভিষেকেই ২৮৭ রানের ম্যারাথন ইনিংস খেলেন তিনি। যা আজও অক্ষত অবস্থায় রয়েছে।

অভিষেকেই সর্বাধিক বিশটি করে শতক হাকিয়েছেন ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যানরা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৫ টি শতক হাঁকিয়েছেন ভারতীয় অভিষিক্ত ব্যাটসম্যানরা। ১৪টি শতক নিয়ে তৃতীয় ওয়েস্টইন্ডিজের ব্যাটসম্যানরা। ১১টি শতকে যৌথভাবে চতুর্থ পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডের ব্যাটসম্যান। ছটি শতকে পঞ্চম দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটসম্যানরা। এরপরেই আছে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা! তিনটি করে শতক আছে তাদের অভিষিক্ত ব্যাটসম্যানদের। দুটি শতকে পরের অবস্থানে জিম্বাবুয়ে, একটি শতকে সবার নিচে আয়ারল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরা।

অভিষেকেই সর্বোচ্চ পঁচিশটি সেঞ্চুরি হয়েছে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সতেরটি হয়েছে অজিদের বিপক্ষে। ওয়েস্টইন্ডিজের বিপক্ষে পনেরটি, ভারতের বিপক্ষে চৌদ্দটি। শ্রীলঙ্কা ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আটটি। বাংলাদেশের বিপক্ষে হয়েছে চারটি।

প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে অভিষেকেই সেঞ্চুরি করেছেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। ২০০০ সালের নভেম্বরে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম টেস্টেই ১৪৫ রানের মহাকাব্যিক ইনিংস খেলেন তিনি। বুলবুলের পরে বাংলাদেশের হয়ে সেঞ্চুরি করেছেন মোহাম্মদ আশরাফুল ও আবুল হাসান।

ইতিহাসের সর্বকালের সর্বকনিষ্ঠ ক্রিকেটার হিসেবে অভিষেকেই সেঞ্চুরি করেছেন মোহাম্মদ আশরাফুল। তিনি তার সতেরতম জন্মদিনের ঠিক আগের দিন এই কৃতিত্ব করেন। ২০০১ সালের ৮ সেপ্টেম্বরে সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত এশিয়ান টেস্ট চ্যাম্পিয়নশীপে তিনি শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ১১৪ রান করে এই কৃতিত্ব অর্জন করেন।
ইতিহাসের সবচেয়ে বয়স্ক ক্রিকেটার হিসেবে অভিষেকেই সেঞ্চুরি করেন অস্ট্রেলিয়ার এ্যাডাম ভোজেস। তিনি ২০১৫ সালের ৩ই জুন নিজের ৩৫ বছর ২৪২ দিন বয়সে ওয়েস্টইন্ডিজের বিপক্ষে অপরাজিত ১৩০ রান করেন।

দশ নম্বর ব্যাটসম্যান হিসেবে অভিষেকেই সেঞ্চুরি করেন বাংলাদেশের আবুল হাসান রাজু। ২০১২ সালের ১১ই নভেম্বর ওয়েস্টইন্ডিজের বিপক্ষে খুলনায় তিনি এই কীর্তি গড়েন।

দেড়শ বছরের টেস্ট ইতিহাসে নিজের টেস্ট অভিষেকের উভয় ইনিংসেই জোড়া সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিলেন মাত্র দুজন! তারা হলেন ওয়েস্টইন্ডিজের লরেন্স রো ও পাকিস্তানের ইয়াসির হামিদ। ১৯৭২ সালের ২৬শে ফেব্রুয়ারি থেকে অনুষ্ঠিত হওয়া টেস্টে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ২১৪ রানের পাশাপাশি দ্বিতীয় ইনিংসে করেন ঠিক অপরাজিত একশ!
২০০৩ সালের ২০ই আগস্ট করাচিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে নিজের অভিষেক টেস্টেই জোড়া সেঞ্চুরি করেন ইয়াসির হামিদ। প্রথম ইনিংসে ১৭০ রানের পাশাপাশি দ্বিতীয় ইনিংসে করেন ১০৫ রান।

একই টেস্টে দুইজন অভিষিক্ত ক্রিকেটারের সেঞ্চুরি হাঁকানোর রেকর্ড আছে ইতিহাসে মাত্র তিনবার!
১৯৩৩ সালে ভারত বনাম ইংল্যান্ডের ম্যাচে প্রথমবারের মতো এই বিরল ঘটনার সাক্ষী হয়েছিল ক্রিকেটবিশ্ব। বোম্বের জিমখানা মাঠে এই ঘটনা ঘটান ভারতের লালা অমরনাথ ও ইংল্যান্ডের ব্রায়ান ভ্যালেন্টাইন।
দ্বিতীয়বার এই ঘটনা ঘটে ১৯৪৮ সালে। পোর্ট অব স্পেনে ইংল্যান্ড বনাম ওয়েস্টইন্ডিজের মধ্যকার ম্যাচে সেঞ্চুরি করেন ইংল্যান্ডের বিলি গ্রিফিথ ও ওয়েস্টইন্ডিজের অ্যান্ডি গ্যানটিউম!

একই দলের দুজন অভিষিক্ত ক্রিকেটারের একই ম্যাচে সেঞ্চুরি করার ঘটনা ঘটেছে ইতিহাসে মাত্র একবার! ১৯৯৭ সালের ৬ই নভেম্বর রাওয়ালপিন্ডিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সেঞ্চুরি করেন পাকিস্তানের আলী নাকভি ও আজহার মাহমুদ!

অভিষেক ম্যাচে সর্বোচ্চ ৩১৪ রান করেছেন ওয়েস্টইন্ডিজের লরেন্স রো।
অভিষেকেই দ্বিশতক হাঁকিয়েছেন পাঁচজন ব্যাটসম্যান।

লিখেছেনঃআসিফ আফনান পিয়াল