লর্ডসে দুর্দান্ত জয় ভারতের

0
477

শেষ দিনে রোমাঞ্চের আভাস ছিলই, তবে ম্যাচের পরিস্থিতিতে কিছুটা হলেও সুবিধাজনক অবস্থানে ছিলো স্বাগতিক ইংল্যান্ড দল। ভারতের কাছে জয়ের চেয়ে ম্যাচ বাঁচানোটাই বেশি চ্যালেঞ্জিং ছিল, তবে ব্যাটার শামি-বুমরাহর পর বোলার সিরাজে অবিশ্বাস্য এক জয়ই পেয়েছে ভারত।

ভারতের দ্বিতীয় ইনিংসের পরেই ম্যাচের ফল অনুমান করা যাচ্ছিলো, যা-ই হোক অন্তত এই ম্যাচে হারছে না ভারত। ইংল্যান্ডের জন্য ৬০ ওভার টিকে থাকার চ্যালেঞ্জ, তবে ভারতীয় পেসারদের দাপটে ৫১.৫ ওভারের বেশি টিকতে পারেনি ইংলিশরা।

১২০ রানে গুটিয়ে দিয়ে ১৫১ রানের দুর্দান্ত জয় তুলে মাঠ ছাড়ে ভারত। ইংলিশদের গুড়িয়ে দেওয়া মোহাম্মদ সিরাজ ৩২ রান দিয়ে নিয়েছেন ৪ উইকেট; জাসপ্রিত বুমরাহ ৩৩ রানে ৩, ইশান্ত শর্মা ১৩ রানে ২ ও মোহাম্মদ শামি ১৩ রান দিয়ে নেন ১ উইকেট। এই জয়ে ৫ ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে গেলো ভারত।

যদিও পঞ্চম দিনের শুরুটা ছিল ইংল্যান্ডের দিকেই, ১৫৪ রানে এগিয়ে থাকা ভারত ৮ রান যোগ করতেই শেষ স্বীকৃত ব্যাটার রিশাভ পান্তকে হারায় ভারত। জয়ের সম্ভাবনা আরও দৃঢ় হয় স্বাগতিকদের, ভারতের লেজ গুটিয়ে দিতে পারলেই ম্যাচের পুরো নিয়ন্ত্রণ চলে আসতো ইংলিশদের কাছে।

কিন্তু সেই লেজের আঘাতেই ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন ইংলিশ বোলিং লাইনআপ। ২০৯ রানে ইশান্ত শর্মাকেও হারানো ভারত আর কোন উইকেটই হারায়নি। ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেওয়া জুটিতে ভারতকে বাঁচিয়ে দেন, ব্যাটার বনে যাওয়া মোহাম্মদ শামি ও জাসপ্রিত বুমরাহ।

দুজনে গড়েন ৮৯ রানের জুটি, ২৯৮ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে ভারত। টেস্ট ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ফিফটি পাওয়া মোহাম্মদ শামি ৫৬ ও জাসপ্রিত বুমরাহ ৩৪ রানে অপরাজিত থাকেন। প্রথম ইনিংসে ২৭ রানে এগিয়ে থাকা ইংল্যান্ডের সামনে জয়ের জন্য লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৭২ রান, মার্ক উড ৩, অলি রবিনসন ও মঈন আলী নেন ২ টি করে উইকেট।

আরও খেলার খবরঃ দেশের খেলা মিস হলেও পুরো আইপিএলের ছাড়পত্র পাচ্ছেন স্টোকসরা

ব্যাটিংয়ে নায়ক বনে যাওয়া মোহাম্মদ শামি ও জাসপ্রিত বুমরাহ বল হাতে নিয়েই দলকে জয়ের স্বপ্ন দেখাতে শুরু করেন, ২৭২ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে ১ রানেই দুই ওপেনারকে তুলে নেন ভারতীয় দুই পেসার। একবার জীবন পাওয়া হাসিব হামিদ ৯ রানের বেশি করতে পারেননি, জনি বেয়ারস্টো ২ ও জো রুট ৩৩ রানে আউট হলে ৬৭ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়ে ইংল্যান্ড।

জস বাটলারের ক্যাচ ০ রানে ফেলে দেন অধিনায়ক ভিরাট কোহলি। জীবন পেয়ে ম্যাচ বাঁচানোর সর্বোচ্চ চেষ্টাই করেন তিনি। মঈন আলীকে সাথে নিয়ে ১৬ ওভারের বেশি সময় কাটিয়ে দেন, শঙ্কা হয়ে ওঠা জুটি ভেঙে দেন মোহাম্মদ সিরাজ।

পরপর ২ বলে মঈন আলী ও স্যাম কারানকে আউট করে ভারতকে জয়ের দিকেই এগিয়ে নেন সিরাজ, তবুও গলার কাটা হয়ে ছিলেন জস বাটলার। অলি রবিনসনকে নিয়ে কাটিয়ে দেন আরও ১০ ওভার, তখন ম্যাচ বাঁচানোর আশা দেখছিলো ইংল্যান্ড। রবিনসনকে লেগ-বিফোরের ফাঁদে ফেলে জুটি ভাঙেন জাসপ্রিত বুমরাহ, জস বাটলারকে ড্রেসিংরুমের পথ দেখান সিরাজ।

শেষটাও করেছেন সিরাজই, জেমস অ্যান্ডারসনকে ০ রানে বোল্ড করে ভারতকে ১৫১ অবিশ্বাস্য এক জয় এনে দেন তিনি।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ভারত ৩৬৪ & ২৯৮/৮ ডিক্লেয়ার- চেতশ্বর পূজারা ৪৫, আজিঙ্কা রাহানে ৬১, মোহাম্মদ শামি ৫৬*, জাসপ্রিত বুমরাহ ৩৪*, মার্ক উড ৩/৫১, অলি রবিনসন ২/৪৫, মঈন আলী ২/৮৪)।

ইংল্যান্ড ৩৯১ & ১২০ (হাসিব হামিদ ৯, জো রুট ৩৩, জস বাটলার ২৫, মঈন আলী ১৩, অলি রবিনসন ৯, সিরাজ ৪/৩২, বুমরাহ ৩/৩৩, ইশান্ত ২/১৩)।

ম্যাচ সেরা: লোকেশ রাহুল।