শ্রীলঙ্কা’র শর্তে বিসিবির না!

0
1175

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি নাজমুল হাসান বলেছেন, শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা সংস্থাগুলি কর্তৃক প্রস্তাবিত ১৪ দিনের কোয়ারানটাইন বিধি যদি বাংলাদেশে দলের উপর আরোপ করা হয় তাহলে বাংলাদেশ দল তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজের জন্য শ্রীলঙ্কা যাবে না।

এসএলসি তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে নির্ধারিত স্বাস্থ্য সুরক্ষার সময়সীমা সম্পর্কে অবহিত করার পরে এই সফর অসম্ভব বলে মনে হচ্ছে। অনুশীলনের জন্য অতিরিক্ত এক সপ্তাহ পাওয়ার জন্য বিসিবি সাত দিনের জন্য কোরেনটাইনে থাকার প্রস্তাব দিয়েছিল।

এসএলসি কর্তৃক প্রেরিত এবং বায়ো সেফটি প্ল্যান অনুযায়ী, প্রস্তাবিত ১৪ দিনের এই কোয়ারেটাইন ১২ অক্টোবরে শেষ হবে। ১২ ই অক্টোবর থেকে শ্রীলঙ্কা এ-দলের বিপক্ষে তাদের তিন দিনের একমাত্র অনুশীলন ম্যাচ খেলার আগে বাংলাদেশ পাঁচ দিনের প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ পাবে এবং এই ম্যাচটি ১৮-২০ অক্টোবরের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবার কথা। দুই দিন বিশ্রামের পরে, প্রথম টেস্টটি ২৩ অক্টোবর শুরু হতে শুরু হবার কথা রয়েছে।

এসএলসি তাদের স্বাস্থ্য ও সুরক্ষার জন্য যে সংস্থাগুলি কাজ করে তাদের বিসিবির চাহিদা অনুযায়ী নিয়ম শিথিলের শর্তে রাজি করতে ব্যর্থ হয়েছে। বোর্ডের সভাপতি নাজমুল হাসান তাদের এই অপারগতা জানার পর পরই তাৎক্ষণিক একটি জরুরি সভা ডেকেছেন এবং পরে ঘোষণা দিয়েছেন যে বিসিবি শ্রীলঙ্কাকে জানিয়ে দিয়েছে যে তারা এই জৈব-সুরক্ষা পরিকল্পনা যদি আরোপ করা হয় তাহলে তারা দল নিয়ে সফরে যাচ্ছে না এবং এখন এসএলসি এর জাবাবের অপেক্ষায় রয়েছেন। বিসিবিতে জানিয়েছে এসএলসি পূর্বে যে জৈব-সুরক্ষার পরিকল্পনা জানিয়েছিল আর বর্তমানে যে পরিকল্পনা দিয়েছে তা সম্পূর্ণ ভিন্ন।

বিসিবি আরও দাবি করেছে যে তাদের আগে এই ধারণা দেওয়া হয়েছিল যে তারা তাদের পৃথক পৃথক সময়ের মধ্যে অক্টোবরে টেস্ট সিরিজ শুরুর আগে তাদের প্রশিক্ষণ এবং ইন্টার-স্কোয়াড ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে। তবে তাদের কোয়ারেন্টাইন সময়কাল শেষ করার আগে তাদের কোনও স্থানীয় দলের বিপক্ষে ম্যাচ খেলতে দেওয়া হবে না।

তার কারনে বিসিবি তাদের নিজস্ব ব্যয়ে একটি হাই পারফরমেন্স ইউনিট অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তবে এখন এসএলসি জোর দিয়েছে যে বাংলাদেশ ৩০ জনের বেশি ক্রিকেটারকে সাথে নিতে পারবে না, ফলে হাই পারফরম্যান্স স্কোয়াডের সফর নিয়ে শংকা দেখা দিয়েছে।

নাজমুল হাসান বলেন, “অনেক টার্ম আমাদের কাছে নতুন। অনেক দেশে সাত দিনের কোয়ারানটাইনে থাকতে হয় তবে তাদের অনুশীলনের অনুমতি দেওয়া হয়। কিছু জায়গায় তিন দিনের কোয়ারান্টাইন পরে দলকে মাঠে নামার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে”।

“তবে গতকাল (১৩ সেপ্টেম্বর) এসএলসি প্রদত্ত শর্তাবলী অনুযায়ি আমাদের দলের সদস্যদের কাউকেইও ১৪ দিনের জন্য হোটেলে কক্ষ থেকে বাইরে যেতে দেওয়া হবে না। এমনকি খাবার খেতেও বাইরে যাওয়া যাবে না। এর পেছনে কিছু কারণ রয়েছে বলে আমরা মনে করি। এর কারণ হতে পারে তারা কোভিড -১৯ পরিস্থিতিতে কঠিন অবস্থা মোকাবেলা করছে যা আমরা জানি না। তারা সেখানে ঘরোয়া খেলছে তবে আমাদের বেলায় তারা এই কঠিন বিধিনিষেধ আরোপের চেষ্টা করছে।

তিনি আরো বলেন,”আমাদের দল ডাম্বুলায় থাকবে এবং কলম্বোতে নয় তা সত্ত্বেও তারা আমাদের দলের সদস্যদের ঘর থেকে বের হতে দিবে না। এই শর্তগুলো অবাক করার মতো। অনুশীলনের সুবিধার কথা যদি বলি, এমনকি তারা কোন নেট বোলার সরবরাহ করতে পারবে না এবং একই সাথে তারা আমাদের কোন নেট বলারও সাথে নিতে দিবে না। এটি কোনও ছেলে খেলা নয়, এটি আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ। আমরা যেমনটা ভাবছি তার মধ্যে অনেক বড় পার্থক্য রয়েছে”।

আমরা তাদের অবহিত করেছি এখন যেভাবে এই সিরিজের পরিকল্পনা ভাবা হচ্ছে বাস্তবতার সাথে এর কোনও মিল নেই। তারা যে শর্ত নির্ধারণের চেষ্টা করছে এই শর্ত মেনে তাদের অধীনে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের সিরিজ খেলা সম্ভব নয়। আমরা প্রত্যাশা করছি আগামীকাল তাদের কাছ থেকে পুনরায় জবাব শুনব। তাদের জন্য আমাদের তররফ থেকে একটি সহজ বার্তা রয়েছে, তারা যে শর্তগুলি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে তা ঐতিহাসিক ভাবে অনন্য। এ জাতীয় শর্তে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ খেলা সম্ভব নয়। যদি তারা আমাদের আবার আলোচনার জন্য আমন্ত্রণ জানায় তবে দেখার বিষয় এটি কোন দিকে যায়।

“আমরা তাদের জবাব দেওয়ার জন্য বেশিক্ষণ অপেক্ষা করব না। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে আমাদের পক্ষে এইভাবে সম্ভব নয় এবং আমরা আমাদের ক্রিকেটারদের মাঠে ফেরাতে যে বিষয়গুলি করা দরকার তা নিয়ে ইতিমধ্যে পরিকল্পনা শুরু করেছি। তারা যদি খুব দ্রুত উত্তর দেয় তবে তা বেশ ভাল অন্যথায় আমাদের নিজস্ব পরিকল্পনা রয়েছে।

নাজমুল হাসান আরও জানান, দেশে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ক্রিকেট আবার চালু করার পরিকল্পনা করছে বোর্ড। করোনাভাইরাস মহামারীজনিত কারণে মার্চ মাসের পর আর কোন খেলা মাঠে গড়ায়নি। শ্রীলঙ্কা সফর বাতিল করা হলে, বিসিবি’র খেলার জন্য বিকল্প টুর্নামেন্টের প্রয়োজন হবে। তবে ঘরোয়া ক্রিকেট শুরু করার পরিকল্পনা চলছে। বিসিবি নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে দেশের একমাত্র প্রথম শ্রেণির টুর্নামেন্ট জাতীয় ক্রিকেট লিগের মাধ্যমে ক্রিকেটকে আবার শুরু করার পরিকল্পনা করছে।

নাজমুল হাসান পাপন আরো বলেন, ‘আমরা এখনও এই সিরিজের বাতিলের কথা ভাবিনি। আমরা যেটি করতে চাই তা হচ্ছে ক্রিকেটকে মাঠে ফিরতে চাই। আমাদের সাথে কোনও আন্তর্জাতিক দল খেলবে কিনা তা নিশ্চিত নয় তবে শিগগিরই আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেট শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। ক্রিকেটাররা এখন দীর্ঘকাল খেলছে না তাই আমরা কিছু পরিকল্পনা করব।’

উপসংহারে তিনি বলেন, “ঢকা লিগের জন্য আমরা এখনই হয়ত সমস্ত ক্লাবকে রাজি করতে পারব না তবে আমরা ৪০ বা ৫০ জন খেলোয়াড়কে খেলায় যুক্ত করতে পারব। আমাদের মাঠে ক্রিকেট ফিরিয়ে আনতে এবং একই সাথে তাদের সুরক্ষাও নিশ্চিত করতে হবে কোভিড -১৯ থেকে। আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি এমন পর্যায়ে আমরা ক্রিকেট খেলা আয়োজন করব, আমরা ক্রিকেট ফিরিয়ে আনতে চাই।”