কোভিড প্রোটকলে মুশফিকের বাদ পড়ায় হতাশ মাহমুদউল্লাহ

0
514

করোনা মহামারীর জন্য প্রায় দেড় বছর সকল প্রকার ক্রিকেট বন্ধ ছিল তারপর পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় প্রোটকল, বায়োবাবল ইত্যাদি নানান রকমের সুরক্ষা নিয়ম তৈরী করে ক্রিকেট গড়ায় মাঠে।

মাঠে ফিরার  পরে ক্রিকেটারদের জন্য সবচেয়ে হতাশা জনক হচ্ছে বায়োবাবল যেকোনো খেলা শেষে বা সিরিজ শেষে ১৪ দিন তাদের থাকতে হচ্ছে কোয়ারান্টাইনে। এই নিয়মের সূত্র ধরেই আজকে থেকে (মঙ্গলবার) শুরু হতে যাওয়া অস্ট্রেলিয়া বনাম বাংলাদেশ সিরিজে যাতে অংশ নিতে পারবেন না মুশফিকুর রহিম এটা টিম অস্ট্রেলিয়ার শর্ত।

কারণঃ- [জিম্বাবুয়ের সিরিজ চলাকালীন সময় মুশফিকুর রহিমের বাবা এবং মা করোনায় আক্রান্ত হন তাই তিনি সিরিজ শেষ না করেই দেশে ফিরে আসেন এবং বাবা-মা’র সম্পূর্ণ চিকিৎসাধীন সময় তাদের পাশেই ছিলেন এর পরপর ই যেহেতু অস্ট্রেলিয়া সিরিজ তাই নিয়ম অনুসারে ১৪দিন কোয়ারান্টাইনে থাকার কথা মি.ডিপেন্ডেবলের তাই অজিদের বিশেষ শর্ত কোয়ারান্টাইন শেষ না হলে যেনো মুশফিক কে খেলতে না দেওয়া হয় ]

কিন্তু এমন শর্তে হতাশ অধিনায়ক রিয়াদ তিনি তাদের এরূপ শর্তের যুক্তি খুজে পাচ্ছেন না। তবে কিছু পজিটিভ দিক দেখছেন বায়োবাবলের যেমন; (আপনি আপনার সতীর্থদের সাথে বেশি সময় কাটাতে পারেন, পরিকল্পনা এবং কৌশল নিয়ে আলোচনা করতে পারেন”)।

দুই দলের মধ্যকার প্রথম দ্বিপাক্ষিক টি -টোয়েন্টি এই সিরিজে থাকছে না তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম এবং লিটন দাস। এই সিরিজে অস্ট্রেলিয়াকে প্রথমে পিছনে ফেলে দেওয়া বাংলাদেশের পরিকল্পনা। তিনজন প্রধান ব্যাটারের অনুপস্থিতিতে প্রভাবিত হয়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু মুশফিকুর রহিমের অনুপস্থিতিতে তারা বিশেষভাবে অসন্তুষ্ট। কারণ, এটি অস্ট্রেলিয়ার কারণে হয়েছে। সিরিজের জন্য বায়োবাবল মানার কঠোর দাবি অস্ট্রেলিয়ার। রাসেল ডোমিংগো, কোচ, এই বিষয়ে তার অসন্তুষ্টি প্রকাশের একদিন পর, অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহও বলেছিলেন যে তিনি “খুব হতাশ” কিন্তু তার মনোযোগ সিরিজের উপর এবং সে এবং অন্যান্য খেলোয়াড়রা কী নিয়ন্ত্রণ করতে পারে কি পারবে না কতটুকু ব্যাকআপ জুনিয়র দিতে পারে এগুলো নিয়ে।

আমরা টি -টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে ভালো উইকেটে খেলতে চাই ‘ পাঁচটি টি -টোয়েন্টি সিরিজের পূর্বে এক সংবাদ সম্মেলনে মাহমুদউল্লাহ বলেন, “মুশফিক অবশ্যই আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের একজন, এবং এই সিরিজের জন্য তাকে পাশে না পেয়ে আমি ব্যক্তিগতভাবে খুবই হতাশ।” “কিন্তু দেখুন এটা আমাদের হাতে নেই আমাদের উদ্দেশ্য হল ভালো ক্রিকেট খেলা এবং ফলাফলের দিকে নজর দেওয়াা ।মুশফিকুর রহিম জিম্বাবুয়ের সিরিজ শেষ না করে মাঝে পথে ফিরে এসেছিলেন এখন তিনি ঢাকাতেই আছেন।

রবিবার কথা বলার সময় ডোমিংগো বলেছিলেন, “মুশফিকের বুদবুদে অস্ট্রেলিয়া যে কঠোর নিয়ম রেখেছে তা আমি বুঝতে পারছি না। দশ দিন [পরিবার পরিদর্শনের পর বুদবুদে পুনরায় প্রবেশের জন্য] অবশ্যই যথেষ্ট হবে, তাই এটা খুবই হতাশাজনক।

তিনজন অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের অনুপস্থিতি তাদের এমন একটি দলের বিপক্ষে প্রত্যাশা কমিয়ে আনতে পারে না। মাহমুদউল্লাহ বলেন, বায়োবাবলে থাকার সময় আদর্শ না, কিন্তু কিছু ইতিবাচক দিকও ছিল।

বায়ো-বাবল ব্যবস্থা এমন যে আপনাকে এটা মেনে নিতে হবে, আপনি যদি ক্রিকেট খেলতে চান তাহলে সেখান থেকে সরে আসার প্রশ্নই আসে না। পিতা -মাতা, পরিবার, সন্তান আছে … আপনি তাদের মিস করছেন। আমাদের এটা মেনে নিতে হবে এবং এগিয়ে যেতে হবে যতক্ষণ না আমরা কোভিডের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে না জিতি।

বায়োবাবল মাঝে মাঝে ক্লান্ত হয়। তবে এর একটি ইতিবাচক দিকও রয়েছে – আপনি আপনার সতীর্থদের সাথে আরও বেশি সময় ব্যয় করতে পারেন, আপনি পরিকল্পনা এবং কৌশল এবং আপনার গেইম প্লানগুলি একে অপরের সাথে আরও অনেক বেশি আলোচনা করতে পারেন। আমরা সব সময় একসাথে থাকি, তাই আমরা একে অপরের সাথে এমন বিষয় নিয়ে আসতে পারি যা আমাদের খেলায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং এটি দলকেও সহায়তা করে। “